দেশাত্মবোধ বাংলা মুক্তচিন্তা

রাষ্ট্রধর্ম ও অন্য ধর্মের অবস্থান

স্বাধীনতা দিবস কেবল-ই গত হলো। আজকের স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারি হয় ১৯৭৪ সালে। প্রথমেই বলে নিচ্ছি যে, ইসলাম সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্ম হওয়ায় এটির পরিমাণ উল্লেখ করলাম না। একই সাথে হিন্দু ছাড়া অন্যান্য সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা তূলনামূলকভাবে খুবই কম হওয়ায় তাদের পরিমাণগুলোও আমার কাছে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি। সংখ্যালঘুদের মাঝে প্রধান হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পরিমাণ যখন কমতে শুরু করে তখন অন্যদেরটা যে বাড়ে না তা সহজেই অনুমেয়। এসব মিলিয়ে হিন্দু ধর্মকেই তুলনার জন্য বেছে নিলাম। যাহোক, ১৯৭৪ সালের সেই আদমশুমারিতে হিন্দু জনসংখ্যার পরিমাণ ছিলো মোট জনসংখ্যার ১৩.৫%। তার ৭ বছর পর ১৯৮১ সালে হয় দ্বিতীয় আদমশুমারি। এবারে হিন্দু জনসংখ্যার পরিমাণ ১.৩৭ ভাগ কমে দাঁড়ায় ১২.১৩%। এই সাত বছরের মধ্যে চার বছর (১৯৭৮–১৯৮১) ক্ষমতায় ছিলেন যুদ্ধপরাধীদের মুক্তিদাতা, সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতার অপসারণকারী, সামরিক শাসক ও একনায়ক জিয়াউর রহমান। হিন্দুর সংখ্যা ১.৩৭% কমার কারণটা তাই খুব বিশ্লেষণ না করেই অনুমান করতে পারছি।

অতঃপর ১৯৮৮ সালে, হোমো এরশাদের আমলে আসে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী — আরেক ধাপ এগিয়ে এবার ইসলামকে করা হয় হয় রাষ্ট্রধর্ম। এর তিন বছর পর ১৯৯১ সালে হয় তৃতীয় আদমশুমারি। এবার হিন্দু জনসংখ্যার পরিমাণ ০.৫১% কমে নেমে হয় ১১.৬২%। আমি ভাবছি একটি সামরিক শাসক ও একনায়কের আমল সংবিধানে করা পরিবর্তন কিভাবে এখনও বৈধ থাকে! ইতোমধ্যে জিয়াউর রহমানের করা পঞ্চম সংশোধনী বাতিল হয়েছে। বিষয়টায় আইনের মারপ্যাচ থাকতে পারে যা সম্পর্কে আমি জানি না।

ক্ষমতার পালাবদল হয়। ১৯১১–১৯৯৬ সাল পর্যন্ত দেশের ক্ষমতায় থাকেন ১৯৭৭ সালে সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা তুলে দেওয়া ও যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয়দাতা জিয়াউর রহমানের পত্নী খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপি। দশ বছর পর ২০০১ সালের চতুর্থ আদমশুমারিতে সংবিধানের ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম হবে ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্মও প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাইবে’ ধারা অনুযায়ী সকল ধর্মালম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের সুন্দর নিদর্শন দেখা যায় — হিন্দু জনসংখ্যার পরিমাণ ২.৪২ ভাগ নেমে হয় ৯.২%। উল্লেখ্য, ১৭ বছরে (১৯৭৪–১৯৯১) হিন্দুর সংখ্যা যেখানে ১.৮৮% কমে সেখানে ১০ বছরে (১৯৯১–২০০১) কমে ২.৪২%। কমতির হার অব্যাহত রেখে ২০১১ সালের জরিপে ০.৭ ভাগ কমে হয় ৮.৫%। এই দশ বছরেও বিএনপি-জামাত পাঁচ বছর (২০০১–২০০৬) দেশ শাসন করে। মূলত এই সময়েই বাংলাদেশে জেএমবি ও অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদের দৃষ্টনীয় উত্থান ঘটে যা পুরো সময়টা জুড়ে তৎকালীন সরকার অস্বীকার করে আসে।

উল্লেখ্য, আদমশুমারি কতোটুকু রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তা নিয়ে সংশয় থাকতে পারে তবুও সংগত কারণেই এটির তথ্যের ওপর আস্থা রাখতেই হয়।

হিন্দু ধর্মাম্বলী এই মানুষগুলো যে ইসলামের শান্তিপূর্ণতার দৃষ্টান্ত দেখে তার সুশীতল ছায়ায় অবস্থান নেয়নি তা তো আমরা সবাই কমবেশি জানি। তাদের বড় অংশ করেছে দেশত্যাগ, অনেকে হয়েছে ধর্মান্তরে বাধ্য। দেশত্যাগের পেছনে রয়েছে ধর্ম পালনে বাধা প্রদান ও সংখ্যালঘু হিসেবে ও হিন্দু হওয়ায় সমাজে ছোট করার প্রবণতাসহ ইত্যাদি নানা কারণ। আর সামনে থেকে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় এই অনবদ্য ভূমিকা পালন করেছে জামাত ও বিএনপি। এই পুরো প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রধর্ম বা এর প্রবর্তকদের কোনো-ই ভূমিকা নেই, তাই না? আক্ষরিক অর্থে যদি জিজ্ঞেস করেন, সংবিধানে একটি ধারা বাদ বা পরিবর্তন করলে সমাজে কি পরিবর্তন আসতে পারে? কিন্তু এখানে মাথায় রাখা প্রয়োজন যারা এটি প্রবর্তন করেছেনে তাদের মানসিকতা কেমন। মানসিকভাবে এই ধরনের পক্ষপাতদুষ্ট লোকগুলো যদি ক্ষমতায় থাকে তবে সংবিধান ও আইনের পাশাপাশি আরও অনেক কিছু পরিবর্তন হয়ে যায় এবং তা হয়েছেও। এবং সংখ্যালঘু নিপীড়ন মূলত বেড়েছে এই সব সরকারের আমলেই। সাথে হয়েছে জঙ্গিবাদের উত্থান যা সামাল দিতে বাংলাদেশ এখনও হিমশিম খাচ্ছে।

তবে আগামীকাল (২৮ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টে যাই হোক রাষ্ট্রধর্মের প্রথার বিলুপ্তি একদিন হবেই। আদালত যুক্তির পক্ষে — ন্যায়ের নয়, অন্যায়েরও নয়। রাজনৈতিক বা অন্য যে-কোনো কারণে এই বেঞ্চ ব্যর্থ হলে সামনে কোনো এক বেঞ্চে বা অন্য কোনোভাবে রাষ্ট্রধর্মের বিলুপ্তি হবে — কিন্তু এই প্রথার বিলুপ্তি হবেই। হোমো এরশাদের সময়ের আগে ইসলাম এদেশে আরও শক্তভাবে ছিলো। বাস্তবে সত্যিকারের ইসলাম এখন দূর্বল হয়েছে, শক্তিশালী হয়েছে কাঠমোল্লার ইসলাম, সন্ত্রাসবাদী ইসলাম। এসব ঠিক করতে প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্মের মতো অযৌক্তিক একটি ধারণা তুলে দেওয়া। প্রথমে রাষ্ট্রকে করতে হবে ধর্মীয় পক্ষপাতমুক্ত এবং তারপর একই প্রক্রিয়ায় ধীরে ধীরে সমাজ। বর্তমান সরকারের প্রতি আমার অনুরোধ ভোটের কথা চিন্তা না করে, বিরোধীপক্ষ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে এটাকে ব্যবহার করবে এটাকে উপেক্ষা করে, তারা হেফাজত ও জামাতের মতো সমমনা সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলোকে শক্ত হাতে দমন করবে।

বাংলাদেশের এই ভৌগলিক অংশে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধর্মের আধিপত্য ছিলো। প্রায় সময়ই একজনের আধিপত্যে অপর জনকে নির্যাতিত হতে হয়েছে। দাড়ির ওপর কর দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হাজী শরীয়তউল্লাহ আন্দোলন করেছেন হিন্দু জমিদারদের বিরুদ্ধে। আজকে তাই হেফাজত বলে এই বাংলা হাজী শরীয়তউল্লাহর বাংলা যেখানে কী না নাস্তিকের ঠাঁই নাই। কিন্তু আপনাদেরকে এভাবে বাড়তে দিলে আপনারা বেড়ে একদিন জিজিয়া করের বাংলা বানাবেন যেখানে টাকা ছাড়া অন্য ধর্মের লোকদের ধর্মের ঠাঁই থাকবে না। যৌক্তিক ও বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে বললে বতর্মান বাংলায় ধর্মান্ধের ঠাঁই নাই। আপনি ধর্মান্ধ মুসলিম হলে মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে উট চরান ও উটমূত্র দিয়ে পিপাসা নিবারণ করুন এবং হিন্দু হলে বিজেপির ভারতে গিয়ে গরু চরানোর পাশাপাশি গোমূত্র দিয়ে পিপাসা নিবারণ করুন। বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ ও শান্তিতে থাকতে দিন।

তথ্যসূত্র: আন্তর্জাল

দেশাত্মবোধ বাংলা

গণপিটুনির সৃজনশীল প্রতিকার

রাজন মারা গেছে। যে এলাকাবাসী তাঁকে মার খেতে দেখে বাধা দেয়নি, সেই ভণ্ড এলাকাবাসী-ই রাজনের হত্যাকারীদের ধরতে পুলিশকে সময় বেধে দিয়েছে। গণধোলাইয়ের এই সংস্কৃতি অবশ্য সিলেটের কুমারগাঁওয়ের-ই শুধু নয়, এ সংস্কৃতির বীজ বাংলার অলিতে-গলিতে।

গণপিটুনি/গণধোলাই বাংলাদেশের একটি কুৎসিত সংস্কৃতি। দেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের হলেও জাতির মানসিকতা অনেক ক্ষেত্রেই যে নিম্ন থেকেও নিম্নতর তার অনেকগুলো প্রমাণের এটি একটি।

কথা হচ্ছে এটি কিভাবে বন্ধ করা সম্ভব? বাঙালিমাত্রই জানে যে তাকে সাধুকথা শুনিয়ে ঠিক করা বাতুলতা মাত্র। তবে কঠোর বাস্তবতা বাঙালিকে সবসময়ই সোজা করতে ও রাখতে কাজে দিয়েছে।

গণধোলাইয়ে সমস্যা হচ্ছে প্রায় সময়ই কে যে মারপিট করেছে বা করেনি বা শুরু করেছে কি করেনি তার রেকর্ড পাওয়া মুশকিল, তাই সঠিক কাউকে সাজা দেওয়া সম্ভব হয় না প্রায় সময়-ই। আর পুলিশ অজ্ঞাত হাজারখানেক আসামী করলেও হাজারখানেক লোককে হাজতে ভরতে পারবে না। মাঝে মাঝে পুলিশ নিজেও এটি একটি সমাধান মনে করে নির্বিকার থেকে এটিকে প্রশ্রয় দেয়। তবে এটা যেহেতু প্রকাশ্যে হয় তাই দায়িত্ব অবশ্যই এলাকাবাসীর ওপর বর্তায় ও বর্তানো উচিত। সুবিধাবাদীরা এখানে পুলিশের ওপর চাপিয়ে দিয়ে পারে কিন্তু এলাকাবাসীর মানসিকতা উন্নয়নের স্বার্থে এই দায়িত্ব তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। কারণ যারা খালি হাতে বা লাঠি দিয়ে পেটাতে পারে, তারা খালি হাতে বা লাঠি দিয়ে পেটানো বন্ধও করতে পারে। সহজ যুক্তি।

এবার আসি সাজা প্রসঙ্গে। একজনকে সাজা না দিয়ে আমি এখানে কঠোরহাতে এলাকাবাসীর ওপর শাস্তি প্রয়োগ করার পক্ষে। কারণ রাজন হত্যাকাণ্ডে পুলিশ মুহিত আলমকে পিটিয়ে মারলেও এলাকাবাসীর মানসিকতা তাতে পরিবর্তন হবে না। তাই সিলেটের কুমারগাঁও এলাকা ধরেই কোনো শাস্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে যেহেতু তাদের অঞ্চলে প্রকাশ্যে এমন একটা ঘটনা ঘটলেও তারা তাতে বাধা দেয়নি বা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন শাস্তিটা কি হবে? অনেক আইডিয়া আছে আমার কাছে।

০১. নির্দিষ্ট স্থাপনা ব্যতীত এলাকার সকল স্থানে দৃষ্টান্তমূলক লোডশেডিং। বিদ্যুত থাকুক বা না থাকুক, গরম বেশি পড়লে বেশি বেশি লোডশেডিং। ভোল্টেজও কমিয়ে রাখা হবে যেনো ফ্যান তিরতির করে ঘুরে। লোকজনের যেহেতু পিটাপিটির স্বভাব আছে, তাই তারা বিদ্যুত অফিস ভাঙচুর করতে পারে। নো প্রবলেম। চাঁদা তুলে বা গতর খেটে ঠিক করে দেবে নইলে কোনো বিদ্যুত-ই নাই।

০২. কঠিন বৃষ্টি হলেই পয়‍ঃনিষ্কাশন বন্ধ। কঠিন ময়লা পানি রোদে-বাতাসে না শুকানো পর্যন্ত পা ডুবায় হাঁটতে থাকবে। পৌরসভা ভাংচুর করতে আসলে ময়লা পানিতে পা ভিজায়ে আসবে। ভাংচুরের পর বাসায় গিয়ে পা চুলকাবে আর ক্রিম ঘষবে। চুলকালে বিশাল আরাম হয়।

০৩. দেশে এলাকাভিত্তিক মানসিকতার শ্রেণীবিন্যাস করা হবে। এই শ্রেণীর নিচের দিকের এলাকায় বাজেটের অবকাঠামো উন্নয়নের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হবে। টাকা বড় ইস্যু।

০৪. সাপ্লাইয়ের পানির ব্যবস্থা থাকলে সেটির কৃত্রিম আকাল তৈরি করা হবে। পর্যাপ্ত পানির জন্য ট্যাংকের কাছে লাইন দিতে হবে অথবা নগদ টাকা দিয়ে পর্যাপ্ত মূল্যে গাড়িভর্তি পানি কিনে নিয়ে যেতে হবে। কতো ধানে কতো চাল গো?

০৫. রান্নাবান্নায় গ্যাস ব্যবহার হলে (সিলেটের ঘরে ঘরে যেহেতু গ্যাস তাই এ পদ্ধতি সেখানে কাজে দেবে) গ্যাসের চাপ পিক আওয়ারে কমিয় রাখা যায়। শাস্তি হিসেবে তাই এলাকাবাসী তখন থেকে অফপিক আওয়ারে খাবে আর পিক আওয়ারে বাথরুম করবে।

০৬. এলাকাসুদ্ধ জরিমানা করা হবে এবং এই জরিমানার টাকা আদায়ের জন্য বিভিন্ন লোকাল ট্যাক্স (যেগুলো পণ্যমূল্য বাড়ায় না বরং বাড়ি/দোকান ভাড়া বা ইউটিলিটি বিল বাড়ায় সেগুলো) বাড়ায় দেওয়া হবে। দোকানের জিনিসের দাম ব্যবসা বাঁচানোর জন্যই বাড়াবে না কারণ নইলে লোকে পাশের এলাকা থেকে জিনিস কিনবে যে!

০৭. পুলিশ এসব ক্ষেত্রে কোনোভাবেই দায়িত্ব এড়াতে পারে না। কর্মরত পুলিশ খবর পেলে ও ব্যবস্থা না ঐ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু চাকরি গেলেই চলবে না, অবহেলার মাত্রা বুঝে পেনশন ও অন্যান্য সুবিধাও ঝুলায় দেওয়া দরকার। এক্ষেত্রে পুলিশের বিশেষ হটলাইন থাকবে যেখানে রেকর্ড থাকবে সত্যি-ই কেউ পুলিশকে অবহিত করেছিলো কী না।

০৮. পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন ঐ এলাকার ময়লা-আবর্জনা প্রতিদিন পরিস্কার করবে না, বরং ময়লা পঁচে যখন এক-দুই দিন ধরে সুবাস পাবে তারপর নিবে। রাস্তায় কুকুর-বিড়াল মরলে বা হাগু করলে সেটা নিজেরা পরিস্কার করবে নইলে সুবাস নিতে থাকবে। নিজের এলাকার মশা-মাছিও নিজে তাড়াবে। পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের কিচ্ছু করার নাই।

০৯. আইন-শৃঙ্খলা বেশি খারাপ হলে আর্মি/বিজিবি তো আছেই। বাংলার মানুষজন আবার মিলিটারির গুলির চেয়ে মাইর বেশি ভয় পায়। মিলিটারির মাইরের এই ভীতি কাজে লাগানো সম্ভব। এমন এলাকার লোকজন কাওয়ার্ড হওয়াটা স্বাভাবিক, তাই মাইর খেলে দেখা যাবে লেজ না গুটিয়ে বরং ফেলে রেখেই দৌড় দিয়েছে।

১০. গণধোলাইয়ের আয়োজক বা প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারীর জন্য কোনো ছাড় নাই। এলাকাবাসী ধরায় দিতে পারলে ও পিটুনি কার্যক্রম বন্ধ করতে পারলে এলাকাবাসীর শ্রেণীমান ওপরে ওঠার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের পুরষ্কৃতও করা হবে।

এভাবে আরও অনেক পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্ভব, তবে মাথায় এই মুহুর্তে এ-কটাই আসলো। ঘটনা ঘটার সাথে সাথে প্রথমে দ্রুততম সময়ে মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে এমন পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করে পরে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলে এমন পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করা উচিত। শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষদের কষ্ট যেনো একটু সহনীয় পর্যায়ে থাকে সেটি দেখা দরকার তবে বেশি দেখার দরকার নাই। তরুণ ছাত্ররাই পকেটমার পিটায় আবার এরাই বাধা দেয়। পিটুনিদাতার ছেলে-মেয়েও স্কুলে যায়। যার বাপ-ভাই এমন, তাকে তো কষ্ট একটু করতেই হবে। দ্রব্যমূল্য ও সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখা দরকার যে-কোনো মূল্যে। মূলকথা হলো এলাকাবাসীকে সুন্দরভাবে এলাকায় রেখে সাইলেন্ট মাইর দিতে হবে। গণপিটুনির জন্য চাই শাস্তির গণপ্রয়োগ।

গণধোলাইরোধ ছাড়াও সংষ্কৃতির আরও অন্যান্য কুৎসিত দিক দূরীকরণে এসব পদ্ধতি কাজে লাগানো যেতে পারে। চাপ প্রয়োগ করে একটা প্রজন্ম ঠিক করতে পারলে পরের প্রজন্মগুলো দেখেই সভ্যতা শিখবে, চাপের আর দরকার হবে না।

তবে এসব শাস্তি প্রয়োগের সময় হাইকুট যেনো আবার রিট-রুট দিয়ে হাইকুট দেখাতে না আসে সেটি সরকারের লক্ষ্য করা দরকার। বিচারপতিরা আবার বিরাট আনপ্রেডিক্টেবল ক্রিয়েচার। তথাকথিত সুশীলরা যেহেতু শুধু কথা বলে তাই তাদেরকে পাত্তা না দিলেও চলবে। আর এই পদ্ধতি সার্বিকভাবে প্রয়োগ হওয়া দরকার। যেমন: ডাকাত গণপিটুনিতে মরলেও ছাড় দেওয়া উচিত হবে না, কারণ আমরা মানসিকতা পরিবর্তন করতে চাচ্ছি তাই গণপিটুনি জিনিসটা না ভোলার আগ পর্যন্ত তাই আমরা তাদের বিভিন্নভাবে চাপে রাখবো। পাশাপাশি চলবে সুকথা ও সুশিক্ষার প্রচার সভ্যতার পথে এসো।

পরিশেষে, রাজন আমি অমন নই মোটেও, তবুও ক্ষমাপ্রার্থী।

দেশাত্মবোধ বাংলা

সাকিব, আপনি রুঢ়তার যোগ্য

জাতীয় দলের হয়ে খেলা শুরুর সময় থেকে যখন সাকিব-আল-হাসানকে দেখলাম তখন থেকেই কেনো যেনো মানুষটাকে আমার অপছন্দ। কোনো কারণ ছিলো না সেজন্য কিন্তু মন সায় দিচ্ছিলো না আর মনে হচ্ছিলো মানুষটা অহংকারী। তারপরেও যখন লোটাস কামালের সাথে তাঁর আপত্তিকর ছবিটি প্রকাশ হলো তখন পক্ষ নিয়েছিলাম সাকিবের কারণ নিজ যোগ্যতায় দেশের সম্পদ তিনি; আর লোটাস কামাল রাজনৈতিকভাবে মনোনীত একজন পদস্থ ব্যক্তি মাত্র যার পক্ষে দলকে সামনে রেখে নিজ স্বার্থে ক্ষমতার অপব্যবহার করা খুবই স্বাভাবিক।

কিন্তু দিন যতো যাচ্ছে সাকিব-আল-হাসানের জন্য লোটাস কামাল শ্রেণীর লোক-ই ঠিক বলে মনে হচ্ছে যারা কী না কুকুরের আচরণ অনুযায়ী কঠোর হাতে প্রয়োজনীয় মুগুরটি ব্যবহার করতে পারে। ভালো খেলা উপহার দিয়ে সাকিবের মানসিকতা এতোটাই অহংকারপূর্ণ হয়েছে যে তিনি হয়তো ভাবেন তাঁর জন্য দেশ, দেশের জন্য তিনি নন। একের পর এক নিয়ম ভঙ্গ, অহংকারপূর্ণ আচরণ ও বক্তব্য দিয়ে চলেছেন তিনি। জরিমানা ও দায়সারা জবাবদিহি করে আর ছোটখাট শাস্তি নিয়ে পারও পেয়ে যাচ্ছেন হারহামেশাই। এর শেষ ভালো নয় জানি, কিন্তু এই অহংবোধের শেষ কোথায় ও কিভাবে হবে তা খুব দেখতে ইচ্ছে হয়।

সাকিব-আল-হাসান, আপনি অনুগ্রহ করে নম্রতা শিখুন। অন্যকে বড় না করলেন, কিন্তু কয়টা বছর ভালো খেলে নিজেকে এতো বড় বা অপরিহার্য ভাববেন না। আপনি টেন্ডুলকার বা লারা নন, বোধ করি হতেও পারবেন না। বছরের সেরা অলরাউন্ডার প্রতি বছরই কেউ না কেউ হয়, কেকেআর আপনাকে ছাড়াও শিরোপা জিতেছে, শাহরুখ খান প্রতিদিন-ই অনেককে নিয়ে নাচেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটি হচ্ছে, দেশের জন্য এই জাতীয় ক্রিকেট দলটা অপরিহার্য, আপনি নন। আপনার ভালো খেলার জন্য আমরা দেশকে সমর্থন করি না, দেশাত্ববোধ থেকে করি। আগে যখন বিশ্বকাপে সুযোগ পাইনি তখনও করেছি, যখন প্রতি ম্যাচে খুব বাজেভাবে হারতাম তখনও করেছি ও করবো। আপনাকে ছাড়া প্রয়োজনে আরও বাজেভাবে হারবো আর পতাকা হাতে নিয়ে সমর্থন দিতে দিতে মুশফিককে গালি দেবো, কিন্তু আপনার নিমকহারামী অহংকার আনন্দ নিয়ে দেখবো না। আপনার কাছে ক্রিকেট টাকা উপার্জনের বস্তু হতে পারে কিন্তু আমরা পকেটের টাকা খরচ করে খেলা দেখতে যাই আনন্দ পেতে, গর্ব করতে, টাকা উপার্জনের জন্য নয়। আর ভালো কথা, নিমকহারামীর কথা কেনো তুললাম জানেন? কারণ এই বাংলাদেশের বিকেএসপিতে আপনি খেলা শিখেছেন, বাংলাদেশের জাতীয় দলে খেলে বিশ্বকে নিজের নাম জানাতে পেরেছেন। এজন্য আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর ভারত আপনাকে ডলারের লোভ দেখায়। কিন্তু একটা কথা মনে রাখবেন, ইতিহাস ভুলে গেলে ইতিহাসের যায় আসে না, বরং বর্তমান-ই বিপদে পড়ে।

পরিশিষ্ট: অনেক দিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের ফসল এই লেখাটি। আজ বের হয়েই গেলো। কারণ বেশি কিছু না.. সাকিবের আরও একটি গুরুতর শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সেটিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্তাদের মুখসর্বস্ব হম্বিতম্বি। তবুও আশায় ভরসা করার চেষ্টা করি, একটা কিছু হবে।

১৩ দফা ও ফ্যাশন ডিজাইন

বজ্রকণ্ঠী শের-এ-কওমী আল্লামা শফি’র ১৩ দফা দাবির প্রেক্ষিতে অর্থকারী ফ্যাশন ডিজাইন শিল্প আজ হুমকির সম্মুখীন। নাস্তিক ব্লগারদের পাশাপাশি হুমকির মুখে আজ এক্সট্যাসি! প্রবর্তনা! আড়ং!

সুদীর্ঘকালব্যাপী এই বাংলার ডিজাইনাররা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সৃজনশীলতার সাথে কামিজের গলা সামনে ও পেছনের দিকে একটু একটু করে নিচে ও ডানে-বাঁয়ে প্রশস্ত করে চলেছেন; কামিজের কটিদেশের কাছে দুই পাশের চেরা অংশটি একটু একটু করে ওপরে উঠিয়ে চলেছেন; সালোয়ার একটু একটু করে লো-কাট করছেন ও নিচে পায়ের দিকে কামিজের কটির মতো টাখনুর ওপরে চিরে দিচ্ছেন; ওপরের কাপড় ঈষদচ্ছ করে ভেতরের কাপড়ের ডালপালা একটু একটু করে ছেঁটে দিচ্ছেন। তাঁদের এই নীরব সাধনা আজ হুমকির মুখে। তবে কী পূর্ণাঙ্গতা পাবার আগেই মৃত্যু ঘটবে এই সাধনার?

আমাদের লক্ষ লক্ষ লেগিংস (প্রচলিতভাবে টাইটস নামে পরিচিত) পরা বাংলাদেশি রমণীকুলের কি হবে? নিজের প্রেমিকা বা স্ত্রীর লেগিংসে আগুন ধরিয়ে, অপরের প্রেমিকা বা স্ত্রীর লেগিংস পরা পা দেখতে যে মজা আপনি পান, তার-ই বা কি হবে? লং স্কার্ট ও লেগিংস একটু একটু করে থ্রি কোয়ার্টার হয়েছে এবং সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে মন মাতানো ও ফিতে প্যাচানো গ্লাডিয়েটর স্যান্ডেল ও বুট সদৃশ লম্বা জুতো। বলুন, পরনারীর এমন পায়ের দিকে কি আপনি একটু হলেও তাকান না? এটি কি আপনার মন মাতায় না? এই বিনোদনের ভবিষ্যত আজ হুমকির মুখে!

তবে ফিগার যেনো ফুটে না ওঠে, তাই নারীকুলকে ঢিলেঢালা জামা পরিয়ে পুরুষের ঈমানকে সুরক্ষার চেষ্টার অগ্রপথিক এই উপমহাদেশের ফ্যাশন ডিজাইনারা-ই। এজন্যই তো তাঁরা দুই হাত কামিজের সাথে ধুতি সদৃশ প্যাঁচানো চার হাত সালোয়ারের সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। এই সালোয়ারের ঢিলেঢালার প্রকটতা এতোটাই ব্যাপক যে পাযুগল দেখে তা আমাদের সুগঠিত কলাগাছ নয়, বরং কচি বটগাছের কাণ্ডের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

আপনি জানেন পুরুষের ঈমান রক্ষায় বোরখা ও হিজাবের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু পুরুষ হিসেবে আপনি তারও আগে জানেন আপনার চোখ ও মনের ক্ষুধা সম্পর্কে। আজকাল তাই মনের ক্ষুধা মিটিয়ে ঈমান রক্ষায় কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে চিকন কটিদেশ বিশিষ্ট ও চুমকির কাজ করা উজ্জল কালো বোরখা। কালো এ যুগের আলো আর এ যুগ বোরখা দিয়ে দৃষ্টি টানবার, ফেরাবার নয়! কালো যেমন সকল রং শুষে নেয়, ঠিক তেমনি করে এই বোরখা আপনার দৃষ্টি শুষে নেবে। শর্ট কামিজের মতো আপনি হয়তো আরও দেখে থাকবেন শর্ট বোরখা যা পরিধানের পর নিচ থেকে বের হয়ে থাকবে নিচে পরিধানকৃত প্যান্ট, লেগিংস, বা সালোয়ার। আপনার দৃষ্টি চলে যাবে তাঁর পায়ের পাতার দিকে। হয়তো সেই রমণীর কোনো একটি ফ্যালাংস অস্থির ওপর চিকচিক করবে আংটির পাথর! আর আপনি মনে মনে বলবেন, “বোরখা পরা মেয়ে আমায় পাগল করেছে!”

ঈমানের সুরক্ষার সাথে মনের ক্ষুধার জিওমেট্রিতে এমন ছেদবিন্দু আর কেউ কি পেরেছে টানতে?

বাংলা মুক্তচিন্তা

মাদ্রাসা শিক্ষা, সুশিক্ষা, ও মুক্তচিন্তা

তথ্যের অবাধ প্রবাহ বাড়ায় মুক্ত চিন্তার ক্ষমতা। সুশিক্ষার হার বাড়ার সাথে সাথে বাড়ে সচেতনতার হার, বাড়ে যুক্তি দিয়ে কাজ ও চিন্তা করার ক্ষমতা, এবং কমে অন্ধ বিশ্বাসের পরিধি।

কোরআন, গীতা, ত্রিপিটক, বাইবেলের মতো গ্রন্থ যে পবিত্র তা আমরা জন্ম থেকে জেনে আসি না। কেউ পরিচয় না করিয়ে দিলে ধর্ম কি তা আমরা জানতাম না। জন্মের পর আমাদের আশেপাশের মানুষ-ই আমাদেরকে এসবের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। আর আমরা প্রায় সবাই ধর্ম না বুঝে শুধুমাত্র তাদের ওপর আস্থা রেখেই তা মানা শুরু করেছি। ধর্মের ব্যাপারে শুরু থেকেই শোনা কথার ওপর আস্থা রাখার এই মানসিকতা আমাদের আজও রয়ে গেছে। নিজে পড়ে ও বুঝে ধর্ম পালনের চেয়ে আজও আমরা হুজুরদের শরণাপন্ন হই। এখন চরমোনাইয়ের পীরও ‘হুজুর’, দেওয়ানবাগীও ‘হুজুর’। আর ভক্তকুল তাদের হুজুর ও পাতি হুজুরদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও নির্দেশনা ইসলামের আলোকে যাচাই না করেই হুজুরের ওপর থাকা অগাধ বিশ্বাসকে পুঁজি করে একে অপরকে ধুয়ে ফেলছে। অথচ ইসলাম পথভ্রষ্টতা প্রতিরোধে হুজুরদের কথা শোনার ওপর জোর দেয়নি, বলেছে কোরআন ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরতে। কিন্তু এ তো জানা কথা যে, এতো বড় কোরআন আর মোটা মোটা হাদিসের বই পড়া থেকে আধা ঘণ্টা হুজুরের কথা শোনা ঢের সময় বাঁচোয়া। আর ধর্মের ব্যাপারে মনোবল বাড়ায় বিশ্বাস, যুক্তি-প্রমাণ নয়।

ধর্মীয় অনুশাসন শিক্ষা দেওয়া অন্যায় নয়। কিন্তু কওমী মাদ্রাসাগুলোতে সারাদিন ধর্মীয় শিক্ষায় ও অনুশাসনে একটি শিশুর মস্তিষ্ক ব্যস্ত রেখে, তাঁর স্বাভাবিক ও মুক্ত চিন্তাকে বাধাগ্রস্থ করে তাঁকে মানসিকভাবে একপেশে করা হয়। আমরা জানি, শিশুর মানসিক বৃদ্ধি তাঁর আশেপাশের পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। এখানে ছয়-সাত বছর বয়সের একটি শিশুর প্রতিদিনকার জীবন মসজিদে পাতা বিছানা থেকে সূর্য উদয়ের আগেই উঠে শুরু হয় এবং সারা দিন পবিত্র কোরআন ও ধর্মীয় পুস্তক পড়ে, ও হুজুরদের সেবাযত্ন করে শেষ হয়। এই শিক্ষা তাঁকে শেখায় অন্য সকল আদর্শকে উপেক্ষা করতে ও সবকিছু এককেন্দ্রিকভাবে চিন্তা করতে, কিন্তু মুক্ত বিবেকের আলোকে নয়। আর এই শিক্ষা গ্রহণ করতে করতেই তার মানসিক বিকাশের সময় পার হয়ে যায়। তাই পরবর্তীতে বড় হওয়ার পর ঐ শিশুটির কাছ থেকে আমাদের এমনটি আশা করা অন্যায় হবে যে, একদিন সে ঐ জীবনে পাওয়া শিক্ষা দ্বারা তৈরি চিন্তাধারাকে পাশ কাটিয়ে কোনো বিষয়ে চিন্তা করতে পারবে বা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এভাবেই কওমী মাদ্রাসায় একটি শিশুর মানসিকতা বিকাশ ও শিক্ষা জীবনের মূল্যবান সময়টি অনুমোদনহীন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানহীন একপেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে নষ্ট হয় — আর এ দায় যার ওপর বর্তাতে পারতো সে হয়তো শিশুটির মাদ্রাসা শিক্ষাকে বলিদানের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। কারণ ধর্মীয় প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য অনেকে তাঁর সন্তানকে মাদ্রাসায় ভর্তি করেন।

বর্তমান বাংলার প্রয়োজন প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, অর্থনীতিবিদসহ বিভিন্ন বিষয়ে কারীগরী জ্ঞানসম্পন্ন পেশাজীবি। অর্থনৈতিক দিক থেকে চিন্তা করলে, প্রতি বছর বের হওয়া হাজার হাজার হাফেজ দিয়ে এই বাংলার এগিয়ে চলা সম্ভব নয়। বছরে একবার বিশ রাকাত তারাবীর নামাজ পড়ানো ছাড়া আর কোন কাজে তাঁদের বিশেষ ব্যবহার চোখে পড়ে না। না পারেন তাঁরা নিজেদের জীবনমান উন্নয়ন করতে, না পারেন সামষ্টিকভাবে দেশের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনো অবদান রাখতে (মানছি, কিছু ইমাম আমরা প্রতি বছর রপ্তানি করি)। অনেকে যদিও এই শিক্ষাক্রমের আওতায় শুরু করেও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বেরিয়ে আসছেন, কিন্তু তার সংখ্যা খুব বেশি নয়। আর অনেকে তো বেরিয়েও আসতে পারছেন না।

আস্তিকতার মূলভিত্তি বিশ্বাস, আর নাস্তিকতার যুক্তি। তাই আস্তিকতার পথে মূর্খও যেতে পারে, কিন্তু নাস্তিক হতে পড়াশোনা করা লাগে। একটি দেশের উন্নয়নের জন্য অশিক্ষিত আস্তিকের চেয়ে শিক্ষিত নাস্তিকের উপস্থিতি বেশি কাম্য। সবার মস্তিষ্কের ওজনই কমবেশি দেড় কেজি, কিন্তু সবার মাথার দাম সমান নয়। আজ শুধুমাত্র ধর্মীয় বিশ্বাসকে আমলে নিয়ে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু ধর্মীয় কট্টরপন্থীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের স্বার্থে নাস্তিক হটাও আন্দোলনে করছে। কিন্তু ইতিহাস বলে, বাংলার রাজত্ব পরিবর্তনশীল। অনুন্নত বাংলায় কালক্রমে বৌদ্ধ ও হিন্দুরা রাজত্ব করে গেছে। উন্নয়নশীল বাংলায় এখন মুসলিমরা রাজত্ব করছে। উন্নত বাংলার রাজত্ব কার হবে তা সময়-ই বলে দেবে।