১৩ দফা ও ফ্যাশন ডিজাইন

বজ্রকণ্ঠী শের-এ-কওমী আল্লামা শফি’র ১৩ দফা দাবির প্রেক্ষিতে অর্থকারী ফ্যাশন ডিজাইন শিল্প আজ হুমকির সম্মুখীন। নাস্তিক ব্লগারদের পাশাপাশি হুমকির মুখে আজ এক্সট্যাসি! প্রবর্তনা! আড়ং!

সুদীর্ঘকালব্যাপী এই বাংলার ডিজাইনাররা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সৃজনশীলতার সাথে কামিজের গলা সামনে ও পেছনের দিকে একটু একটু করে নিচে ও ডানে-বাঁয়ে প্রশস্ত করে চলেছেন; কামিজের কটিদেশের কাছে দুই পাশের চেরা অংশটি একটু একটু করে ওপরে উঠিয়ে চলেছেন; সালোয়ার একটু একটু করে লো-কাট করছেন ও নিচে পায়ের দিকে কামিজের কটির মতো টাখনুর ওপরে চিরে দিচ্ছেন; ওপরের কাপড় ঈষদচ্ছ করে ভেতরের কাপড়ের ডালপালা একটু একটু করে ছেঁটে দিচ্ছেন। তাঁদের এই নীরব সাধনা আজ হুমকির মুখে। তবে কী পূর্ণাঙ্গতা পাবার আগেই মৃত্যু ঘটবে এই সাধনার?

আমাদের লক্ষ লক্ষ লেগিংস (প্রচলিতভাবে টাইটস নামে পরিচিত) পরা বাংলাদেশি রমণীকুলের কি হবে? নিজের প্রেমিকা বা স্ত্রীর লেগিংসে আগুন ধরিয়ে, অপরের প্রেমিকা বা স্ত্রীর লেগিংস পরা পা দেখতে যে মজা আপনি পান, তার-ই বা কি হবে? লং স্কার্ট ও লেগিংস একটু একটু করে থ্রি কোয়ার্টার হয়েছে এবং সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে মন মাতানো ও ফিতে প্যাচানো গ্লাডিয়েটর স্যান্ডেল ও বুট সদৃশ লম্বা জুতো। বলুন, পরনারীর এমন পায়ের দিকে কি আপনি একটু হলেও তাকান না? এটি কি আপনার মন মাতায় না? এই বিনোদনের ভবিষ্যত আজ হুমকির মুখে!

তবে ফিগার যেনো ফুটে না ওঠে, তাই নারীকুলকে ঢিলেঢালা জামা পরিয়ে পুরুষের ঈমানকে সুরক্ষার চেষ্টার অগ্রপথিক এই উপমহাদেশের ফ্যাশন ডিজাইনারা-ই। এজন্যই তো তাঁরা দুই হাত কামিজের সাথে ধুতি সদৃশ প্যাঁচানো চার হাত সালোয়ারের সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। এই সালোয়ারের ঢিলেঢালার প্রকটতা এতোটাই ব্যাপক যে পাযুগল দেখে তা আমাদের সুগঠিত কলাগাছ নয়, বরং কচি বটগাছের কাণ্ডের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

আপনি জানেন পুরুষের ঈমান রক্ষায় বোরখা ও হিজাবের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু পুরুষ হিসেবে আপনি তারও আগে জানেন আপনার চোখ ও মনের ক্ষুধা সম্পর্কে। আজকাল তাই মনের ক্ষুধা মিটিয়ে ঈমান রক্ষায় কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে চিকন কটিদেশ বিশিষ্ট ও চুমকির কাজ করা উজ্জল কালো বোরখা। কালো এ যুগের আলো আর এ যুগ বোরখা দিয়ে দৃষ্টি টানবার, ফেরাবার নয়! কালো যেমন সকল রং শুষে নেয়, ঠিক তেমনি করে এই বোরখা আপনার দৃষ্টি শুষে নেবে। শর্ট কামিজের মতো আপনি হয়তো আরও দেখে থাকবেন শর্ট বোরখা যা পরিধানের পর নিচ থেকে বের হয়ে থাকবে নিচে পরিধানকৃত প্যান্ট, লেগিংস, বা সালোয়ার। আপনার দৃষ্টি চলে যাবে তাঁর পায়ের পাতার দিকে। হয়তো সেই রমণীর কোনো একটি ফ্যালাংস অস্থির ওপর চিকচিক করবে আংটির পাথর! আর আপনি মনে মনে বলবেন, “বোরখা পরা মেয়ে আমায় পাগল করেছে!”

ঈমানের সুরক্ষার সাথে মনের ক্ষুধার জিওমেট্রিতে এমন ছেদবিন্দু আর কেউ কি পেরেছে টানতে?

Leave a Reply to BobbuBrowne Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *